আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আবারও লিখলেন বিশ্বকাপের ইতিহাস। কেপ ভার্দের বিপক্ষে চলতি বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০-এ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এই গোলের মাধ্যমে মেসি আরেকটি অনন্য রেকর্ডও নিজের করে নেন। ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল উরুগুয়ের ওবদুলিও ভারেলার দখলে। তিনি ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ৩৬ বছর বয়সে নকআউট পর্বে গোল করেছিলেন।
চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। ফলে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে ব্যবধান আরও বাড়িয়েছেন। বর্তমানে মেসির গোলসংখ্যা ২০, এমবাপ্পের ১৮ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের গোল ১৬টি।
২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। আসরের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্ট শুরু করেন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষেও গোল করেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে নিজের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ করলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।
মেসির টানা আট বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষেও গোল করেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান এবং কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি (২০ গোল, ৩০ ম্যাচ)। দ্বিতীয় স্থানে কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৮ গোল, ১৮ ম্যাচ), তৃতীয় স্থানে মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬ গোল, ২৪ ম্যাচ)। এরপর রয়েছেন রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল, ১৯ ম্যাচ), গার্ড মুলার (১৪ গোল, ১৩ ম্যাচ), জুস্ত ফন্টেইন (১৩ গোল, ৬ ম্যাচ) এবং পেলে (১২ গোল, ১৪ ম্যাচ)।

