প্রধান খবর

সিডনিতে জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব

প্রবাসের যান্ত্রিক ও ব্যস্ত জীবনের মাঝে বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলল ‘জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়া’। সংগঠনটির উদ্যোগে সিডনির গ্লেনফিল্ড কমিউনিটি সেন্টারে আজ ১১ জুলাই (শনিবার) দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডনির বিভিন্ন উপশহর থেকে আগত ৩৫টি পরিবার এবং তাদের শতাধিক সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙালিদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পবিত্র আল-কোরআন ও গীতা থেকে পাঠের পর অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এই পর্বটি বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতার এক অনন্য বার্তা বহন করে।

স্বাগত বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি ভবিষ্যতেও এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সোহেল জুলভী এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী তাঁদের বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেন।

উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল ভোজনরসিক বাঙালিদের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী নয় ধরনের পিঠার সমারোহ। ঝাল পুলি, মিষ্টি পুলি, তেলের পিঠা, পাটিসাপটা, মুখ পাকান পিঠা, ভাপা পিঠা, ঝাল পিঠা এবং এর সঙ্গে দই ও রসগোল্লাসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন উপস্থিত অতিথিরা। পিঠার চেনা ঘ্রাণে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে স্মৃতিচারণ করেন শৈশবের শীতের সকাল, গ্রামের উঠান আর পারিবারিক উৎসবের দিনগুলোর। সকালে পিঠা পর্ব শেষে দুপুরে সকল অতিথির জন্য এক আন্তরিক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

দিনটিকে আরও রাঙিয়ে তুলতে মধ্যাহ্নভোজের পর মঞ্চে আসে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চারু গানের দল’। তাদের দেশাত্মবোধক, লোকজ ও আধুনিক গানের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মায়াজালে বেঁধে রাখে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলো আয়োজকদের এই চমৎকার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে একে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

দিনব্যাপী এ উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জামালপুর-শেরপুর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এই উৎসব প্রমাণ করে—দেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলেও হৃদয়ের গভীরে চিরকাল অমলিন থাকে বাংলার সংস্কৃতি ও শেকড়ের টান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *