সাধারণ যাত্রীদের নিত্যদিনের দুর্ভোগ ও গণপরিবহনের বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখতে ছদ্মবেশে বাসে চড়েছিলেন ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ। তবে জনস্বার্থে চালানো সেই আকস্মিক পরিদর্শনই তাকে এনে দিল এক অভাবনীয় ও অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা। টিকিট কাটতে ১০০ রুপির নোট দেওয়ার পর কন্ডাক্টরের কাছে খুচরা বা ‘ভাংতি’ টাকা না থাকায় মন্ত্রীকে টিকিট তো দেওয়া হলোই না, উল্টো বাস থেকে নেমে যেতে বলা হলো। ফলে প্রতিদিন হাজারো সাধারণ যাত্রী যে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হন, তা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেলেন স্বয়ং রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী।
সম্প্রতি মুখে মাস্ক পরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বেঙ্গালুরুর ১০টিরও বেশি বিএমটিসি বাসে সাধারণ যাত্রীর বেশে ভ্রমণ করেন বাইরাথি সুরেশ। পুরো সময়জুড়ে তিনি বাসসেবার নানা দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং যাত্রীদের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন।
পরিদর্শনের সময় সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মগুলোর একটি ধরা পড়ে ‘ফ্যান ওয়ার্ল্ড’ বাসস্টপে। সেখানে এক যাত্রী নামার সংকেত দিলেও একটি বাস স্টপেজে না থামিয়েই চলে যায়। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে সেই নাটকীয় ঘটনা। মন্ত্রী হেব্বাল-নাগশেট্টিহল্লি রুটের একটি বাসে ওঠেন। কন্ডাক্টর টিকিট কাটতে আসলে তিনি ১০০ রুপির একটি নোট এগিয়ে দেন। কন্ডাক্টর সাফ জানিয়ে দেন যে তার কাছে কোনো খুচরা টাকা নেই। এরপর কোনো রকম খাতির না করে, টিকিট না দিয়েই মন্ত্রীকে সোজা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সাধারণ যাত্রীদের কাছে বহুদিনের পরিচিত এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের সামগ্রিক পরিবহনব্যবস্থার ভেতরের কঙ্কালসার চিত্রটি আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেন সুরেশ।
বাস ভ্রমণ শেষে নাগশেট্টিহল্লি এলাকায় নেমে তিনি আরেকটি অনিয়ম রুখতে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেন। সেখানে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে এক সাধারণ যাত্রীর ভাড়া নিয়ে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা চলছিল। অভিযোগ ছিল, মিটারে ভাড়া ৩০ রুপি দেখালেও চালক যাত্রীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৩৬ রুপি দাবি করছিলেন। মন্ত্রী ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই বিষয়টি কঠোরভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
এই গোপন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পরিবহনমন্ত্রী বাইরাথি সুরেশ বলেন, “গণপরিবহনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই আকস্মিক অভিযান চালানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নেমে বাস্তব পরিস্থিতি দেখলেই কেবল সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান নেওয়া সম্ভব।” সাধারণ মানুষের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক ও গোপন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

