ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন পবিত্র আশুরা আজ। হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররম, শুক্রবার দেশজুড়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, মর্যাদা এবং শোক ও কৃতজ্ঞতার আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। আশুরা উপলক্ষে আজ সারা দেশে সরকারি ছুটি। দিনটি একই সঙ্গে বনি ইসরাঈলের মুক্তির আনন্দ, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্রের শাহাদাতের গভীর শোকের স্মৃতি বহন করে।
‘আশুরা’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দশম। মহররম মাসের ১০ তারিখে দিনটি উদযাপিত হওয়ায় একে আশুরা হিসেবে অভিহিত করা হয়। ইসলামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই দিনটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময়। পবিত্র হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, এই পুণ্যময় তিথিতেই মহান আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের চরম অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এবং আল্লাহর প্রতি শুকরিয়াস্বরূপ মুসলিম উম্মাহ এই দিনে রোজা পালন করে থাকেন। ইহুদিদের প্রথার সঙ্গে ভিন্নতা বজায় রাখতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার আগের বা পরের দিনসহ আরও একটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলামের ইতিহাসে আশুরার স্থান যেমন কৃতজ্ঞতার, তেমনই তা ত্যাগ ও চরম শোকের। ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু বছর পর, ৬১ হিজরির এই ১০ মহররমেই ইরাকের কারবালা প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক ও নির্মম হত্যাকাণ্ড। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহচররা স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নিষ্ঠুরভাবে শাহাদাতবরণ করেন। কারবালার এই মহান আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে চিরকাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অবিনাশী প্রেরণা জোগায়।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, আশুরার শাশ্বত শিক্ষা মানুষকে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করে এবং সত্য ও আলোর পথ দেখায়। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামে কোনো ধরনের বিভেদ, হানাহানি বা সামাজিক বৈরিতার স্থান নেই।
পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, বিশেষ দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা ও নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করছেন। অপরদিকে, শিয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কারবালার শোকাবহ স্মরণে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। তাজিয়া মিছিল ও পবিত্র আশুরার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

