যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের মর্যাদা দখল করেছে চীন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা কম্পিউটার টপ৫০০ তালিকার শীর্ষে উঠল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে চীনের শেনজেনে অবস্থিত লাইনশাইন সুপারকম্পিউটারটি প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এর আগে শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটান।
টপ৫০০ প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চীনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে থাকা লাইনশাইন কম্পিউটারটি ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস গতি অর্জন করেছে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নেরও বেশি গণনা করতে সক্ষম। এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রকাশ্যে যাচাইকৃত এক্সাস্কেল কম্পিউটার।
র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির এল ক্যাপিটান। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেনেসি ও ইলিনয়ের জাতীয় গবেষণাগারের আরও দুটি মার্কিন সুপারকম্পিউটার। পঞ্চম স্থানে রয়েছে জার্মানির জুপিটার সুপারকম্পিউটার। এই পাঁচটি কম্পিউটারই বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র প্রকাশ্যে যাচাইকৃত এক্সাস্কেল মেশিন।
লাইনশাইন সুপারকম্পিউটারটির বিশেষত্ব হলো এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবহৃত জিপিইউ নয়, বরং সম্পূর্ণ সিপিইউ-ভিত্তিক স্থাপনায় তৈরি। টপ৫০০-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সুপারকম্পিউটার পরিচালনা করতে প্রয়োজন হয় প্রায় ৪২.২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
চীনের এই অর্জনকে প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুপারকম্পিউটিং ক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতায় এটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

