ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে জাভার ইন্দ্রামায়ু রিজেন্সির কিয়াজারান কুলোন গ্রামের উত্তর উপকূলীয় মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী খোলা পিকআপ ভ্যান বিপরীতমুখী দুটি চলন্ত ট্রাকের মাঝখানে চাপা পড়লে এই ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা সবাই একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা একটি উন্মুক্ত পিকআপ ভ্যানে করে পাশের পারিয়ান গ্রাম থেকে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের একটি ইউ-টার্ন (U-Turn) পার হওয়ার জন্য পিকআপটি গতি কমিয়ে ডিভাইডারের পাশে এসে দাঁড়ায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ও অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।
পেছনের ট্রাকের প্রচণ্ড ধাক্কায় পিকআপটি ছিটকে সরাসরি মহাসড়কের বিপরীত পাশের লেনে চলে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক ওই সময়েই বিপরীত দিক থেকে আরেকটি দ্রুতগামী ট্রাক আসছিল। ছিটকে পড়া পিকআপটির সাথে বিপরীতমুখী ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ফলে দুটি ভারী ট্রাকের মাঝখানে পড়ে পিকআপটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুই ট্রাকের প্রচণ্ড চাপে পিষ্ট হয়ে পিকআপের আরোহীরা মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু ও নারীসহ ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৫ জন আরোহী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সংবাদ পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ইন্দোনেশিয়ায় অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহন চলাচল, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতার কারণে প্রায়ই এমন ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিয়ের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই শোকে রূপ নেওয়ায় ওই এলাকায় স্তব্ধতা নেমে এসেছে। চালকের অসতর্কতা নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

