প্রধান খবর

ফিলিস্তিনের কট্টর সমালোচক ও প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন

ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব, বিশেষ করে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কঠোর সমালোচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন। মৃত্যুকালে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধিতাকারী এই কট্টরপন্থী নেতার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তিনি ইসরায়েলের অন্যতম দৃঢ় ও অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ১১ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যার দিকে আকস্মিক অসুস্থতার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১২ জুলাই (রোববার) স্থানীয় সময় ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক পোস্টের মাধ্যমে সিনেটর গ্রাহামের কার্যালয়ের যোগাযোগ পরিচালক এই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। গ্রাহামের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ তীব্র অসুস্থ বোধ করার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই কঠিন সময়ে লিন্ডসে গ্রাহামের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে সমবেদনা ও প্রার্থনা চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী লিন্ডসি গ্রাহাম মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারক ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। বিশেষ করে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতো। সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধের সময় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিতর্কিত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো ও প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের এই আকস্মিক প্রয়াণে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন। তাঁর মৃত্যুর ফলে মার্কিন সিনেটে এবং বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণী গ্রুপে একটি বড় শূন্যতার সৃষ্টি হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *