প্রধান খবর

১৪ গো-রক্ষককে সাজা দেয়ার পর হত্যার হুমকি পাচ্ছেন নারী বিচারক

ভারতে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার (মব লিঞ্চিং) ঘটনায় ১৪ জন কথিত গো-রক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তবে এই ঐতিহাসিক ও ন্যায়সংগত রায় ঘোষণার পর থেকেই চরম বিপাকে পড়েছেন রায় প্রদানকারী মুসলিম নারী বিচারক তাবাসসুম খান। উগ্রবাদীদের পক্ষ থেকে তাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি তীব্র সাইবার বুলিং ও অনলাইন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তাবাসসুম খান ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মামলার নথিপত্র ও প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ওই ১৪ জন অভিযুক্তকে খুন, দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং অবৈধভাবে সাধারণ মানুষকে আটকে রাখার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পরপরই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই নারী বিচারকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পক্ষপাতের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণেই তাদের এমন কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ভারতে চলমান তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণ ও উত্তেজনার মধ্যেই এই রায়ের ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থীরা ইন্টারনেট দুনিয়ার পাশাপাশি রাজপথেও উসকানিমূলক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এই উদ্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। আদালত অনতিবিলম্বে বিচারক তাবাসসুম খানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে ৫০ বছর বয়সী নাজির আহমেদ নামের এক ব্যক্তি গবাদিপশু পরিবহন করার সময় কথিত গো-রক্ষকদের বর্বরতার শিকার হন। নিজেদের গো-রক্ষক দাবি করা একদল উগ্রবাদী লাঠি ও লোহার রড দিয়ে নাজিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের অভিযোগ ছিল, নাজির রাতের আঁধারে অবৈধভাবে গরু পাচার করছিলেন। এই অজুহাতে তারা নাজিরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে, যার ফলে পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে সৌভাগ্যবশত তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই ব্যক্তি প্রাণে বেঁচে যান।

এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক তাবাসসুম খান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, এটি আইনের শাসনের ওপর আঘাত এবং মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনির একটি জঘন্য উদাহরণ। অপরাধীদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে না। উল্লেখ্য, ভারতের বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বী গরুকে পবিত্র মনে করায় দেশটির প্রায় ২০টি রাজ্যে গরু জবাই ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এই আইনকে হাতিয়ার করেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে তথাকথিত গো-রক্ষকদের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *