কসবা-আখাউড়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বেকারত্ব ও সামাজিক স্থবিরতা দূর করতে মাঠে নেমে ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কবির আহমেদ ভূঁইয়া। জনসেবার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে যেখানে অনেকেই পিছিয়ে থাকেন, সেখানে তিনি নিজের এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করে দেখিয়েছেন উদ্যোগ ও আন্তরিকতা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব।
স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রথম থেকেই এলাকার কর্মসংস্থানের সংকট এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরেন। তার উদ্যোগে বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে গুরুত্ব পায়। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) কসবায় ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল) স্থাপনের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

কোথায় স্থাপিত হবে ইপিজেড?
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইপিজেডটি স্থাপিত হবে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর এলাকায়। এলাকাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন ও আখাউড়া স্থলবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি শিল্পায়নের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বেপজার নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানানো হয় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চিঠিটি জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার কাছেও পাঠানো হয়েছে, যা তিনি সাংবাদিকদের দেখিয়েছেন।
এর আগে, গত ২৪ মার্চ তিনি বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা পাঠান। সেখানে তিনি তিনলাখপীর এলাকার ভৌগোলিক সুবিধা, যোগাযোগব্যবস্থা, খাসজমির প্রাপ্যতা এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
ইপিজেড কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড হলো শুল্কমুক্ত ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শিল্প এলাকা, যেখানে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও সংযোজন করা হয়।
এর মূল লক্ষ্য:
বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ
রপ্তানি বৃদ্ধি
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
এ বিষয়ে জেলা বিএনপি সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কসবা-আখাউড়া অঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। প্রবাসী দক্ষ জনশক্তির জন্যও এটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। আশা করছি সরকার খুব শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করবে।”

