গত বছরের ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের প্রথম বর্ষপূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং দেশটির অন্যতম শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বে না এবং নিজেদের নীতিতে অটল থাকবে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে গালিবাফ দাবি করেন, ওই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা নিষ্পাপ শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং যুদ্ধকালীন কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধ বা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকেনি।”
যুদ্ধের সময় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধের বীর ও নিপীড়িত শহীদদের অনুপ্রেরণায় আমরা আমাদের প্রিয় ইরানের সার্বভৌম মর্যাদা রক্ষা ও চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফের এই কঠোর মন্তব্য এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা কিছুটা এগোনোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু এবং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক চরম অবিশ্বাস এখনো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে রেখেছে।
যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এই বার্তা মূলত দেশের অভ্যন্তরে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের মনোভাবকে আরও জোরদার করার একটি প্রয়াস। একই সাথে এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলেও তেহরান নিজেদের অনড় ও আপসহীন অবস্থানটি অত্যন্ত শক্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

