অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে কট্টর ডানপন্থী দল হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ান নেশন’ এবং এর প্রধান পলিন হ্যানসনের নাটকীয় উত্থান নিয়ে এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। মেলবোর্নে দলটির একটি বিশেষ তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বর্ণবাদবিরোধী ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মূল রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ পলিন হ্যানসনের অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে পুলিশি পাহারায় অত্যন্ত গোপনে অন্য একটি স্থানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে স্থান পরিবর্তনের খবর জানাজানি হয়ে গেলে নতুন অনুষ্ঠানস্থলের বাইরেও ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে বর্ণবাদবিরোধীরা। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কট্টরপন্থী দলটির প্রতি অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার এখন সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন। বর্তমান আলবানিজ সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পলিন হ্যানসন মাত্র দুই দিনে প্রায় ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
কট্টর ডানপন্থী দলটির এই আকস্মিক উত্থানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দলটির কট্টর অভিবাসনবিরোধী নীতি সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, এমন একজন সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ওয়ান নেশন দলটির এই ৩০ শতাংশ জনপ্রিয়তা পাওয়ার খবর আমাদের মতো সাধারণ অভিবাসীদের মনে সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি করছে।”
আরেকজন বাংলাদেশি অভিবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো দেশের চলমান আবাসন ও অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে মূলত বর্ণবাদকে উসকে দিচ্ছে, যা বহুসংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার জন্য সত্যিই একটি চিন্তার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান নেশন দলের এই আকস্মিক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ আগামী দিনের অস্ট্রেলীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে মূলধারার দলগুলোর জন্য এই কট্টরপন্থীদের সামলানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

