প্রধান খবর

টানা ১৪ দিন কফি পান: শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটতে পারে

প্রতিদিনের জীবনে কফি এখন অনেকের অপরিহার্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট মাত্রায় নিয়মিত কফি পান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি উল্লেখ করেছেন, টানা ১৪ দিন প্রতিদিন কফি পান করলে শরীরে কিছু লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

তার মতে, নিয়মিত কফি পান লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। এটি ফ্যাটি লিভার, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

এছাড়া কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্ল্যাক কফি ফ্যাট বার্ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্ষুধা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কফির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ক্যাফেইন মনোযোগ, সতর্কতা এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে, যা দীর্ঘ সময় কাজ বা পড়াশোনায় সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি কফি অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে, ফলে অনেকের ক্ষেত্রে এটি মলত্যাগে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

তবে কফি পানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। বিশেষ করে Irritable Bowel Syndrome-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কফি পেটব্যথা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ১ থেকে ৩ কাপ ব্ল্যাক কফি পানের পরামর্শ দিলেও, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, উদ্বেগ, অ্যাসিডিটি বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে তা কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *