প্রধান খবর

টাইম হায়ার এডুকেশনের দৃষ্টির দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা!

টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই)-এর সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬ প্রকাশিত হয় গত ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর। এই প্রেস্টিজিয়াস গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং-এ সারা বিশ্বের ১১৫টি দেশ ও অঞ্চলের মোট ২,১৯১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় ১০০ স্কোরের মধ্যে ৯৮.২ অর্জন করে প্রথম স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড।

এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার ৬টি দেশের মোট ৩০১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্থান পেয়েছে। তবে, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬-এ বিশ্বের সেরা ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্থান পায়নি। এই তালিকায় ভারতের ১৬৩টি, পাকিস্তানের ৯৯টি, বাংলাদেশের ২৮টি, শ্রীলংকার ৯টি এবং নেপাল ও আফগানিস্তানের ১টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এককভাবে সংখ্যার দিক থেকে বরাবরই শীর্ষে থাকলেও মানের দিক থেকে এখনো বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি) ২০১-২৫০ তম স্থানে রয়েছে।

এছাড়া, ভারতের সেভিথা ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল সায়েন্সেস ৩৫১-৪০০ তম স্থানে এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৪০১-৫০০ তম স্থানে উঠে এসেছে। এর পাশাপাশি, বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি ও শূলিনী ইউনিভার্সিটি অফ বায়োটেকনোলজি যৌথভাবে ৪০১-৫০০ তম স্থানে নিজের যোগ্য স্থান করে নিয়েছে।

এদিকে, নানা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ওঠাপড়ার মধ্যেও পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষার অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল বলা চলে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কায়েদ-ই-আজম ইউনিভার্সিটি ৪০১-৫০০ তম স্থানে রয়েছে। এয়ার ইউনিভার্সিটি ও বাহাউদ্দিন জাকারিয়া ইউনিভার্সিটি উভয়ই ৬০১-৮০০ তম স্থানে রয়েছে।

এছাড়া, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৬-এ বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি—এই পাঁচটি উচ্চস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ৮০১-১০০০ তম তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

এর পাশাপাশি, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কার ইউনিভার্সিটি অফ কলম্বো ১০০১-১২০০ তম স্থানে, ইউনিভার্সিটি অফ পেরাদেনিয়া ১২০১-১৫০০ তম স্থানে এবং শ্রীলঙ্কা ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (এসএলআইআইটি) ১৫০১+ র‍্যাংকিং-এ স্থান করে নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উচ্চশিক্ষার আধুনিকায়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে নেপাল ও আফগানিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি এবং আফগানিস্তানের কাবুল ইউনিভার্সিটি উভয়ই ১৫০১+ র‍্যাংকিং-এ নাম লিখিয়েছে। যদিও, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের জন্য এই তালিকায় টিকে থাকাটাই একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও আধুনিকায়ন পরিমাণগত দিক থেকে ইতিবাচকভাবে প্রসারিত হলেও গুণগত মানের দিক থেকে এখনো কিন্তু উন্নত বিশ্বের চেয়ে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। তাই, বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা ও উন্নত গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে এখন পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে বৈশ্বিক মানচিত্রে নিজের যোগ্য স্থান করে নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *