বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বহুল বিতর্কিত নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন অবশেষে জমা পড়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়ম ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১১ মার্চ এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবসের আগেই তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দিল এই কমিটি।
তদন্ত চলাকালীন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি বর্তমান বোর্ড সভাপতির বিরুদ্ধেও সরাসরি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কমিটির প্রধান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি।
এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ঠিক আগেই বিসিবিতে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে একে একে মোট সাতজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, যা বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামোকে চরম সংকটে ফেলেছে। শনিবার রাতের ম্যারাথন সভার পর চারজন পরিচালকের একযোগে পদত্যাগকে অনেকেই তদন্ত প্রতিবেদনের সম্ভাব্য কঠোর সুপারিশের আগাম প্রভাব হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ডিসিপ্লিনারি ও ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রধানদের সরে দাঁড়ানো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা পড়া এই প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপরই এখন নির্ভর করছে বিসিবির ভবিষ্যৎ। বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন বা আমূল পুনর্গঠনের সম্ভাবনা এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই কাঠামোগত পরিবর্তনের গুঞ্জনে ক্রীড়াঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন সবার নজর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আগামীর প্রশাসনিক গতিপথ।

