উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসগামী যাত্রায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ৮ জন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য মিলেছে, যা স্থানীয়ভাবে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. আজিজুর রহমান জানান, দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনায় জানা যায়, যাত্রাপথে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিলে অনেক যাত্রী দুর্বল হয়ে পড়েন এবং পর্যায়ক্রমে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে পাচারকারীরা মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার চারজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং মুজিবুর রহমান (৩৮)। অপরদিকে জগন্নাথপুর উপজেলার আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পরিবারগুলো পেয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানোর চুক্তি করা হয়েছিল। নিরাপদ জাহাজে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌযানে তোলা হয়, যা এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না এলেও বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

