দ্য ইকোনমিক টাইমস নিউজের দেয়া তথ্যমতে, গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার ভারতের নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো একটি পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালেস্টিক মিসাইল সাবমেরিন ‘এইএনএস আরিদমন’ (INS Aridhaman)। এটি হচ্ছে দেশটির নৌবাহিনীর তৃতীয় কৌশলগত অরিহন্ত ক্লাস নিউক্লিয়ার ব্যালেস্টিক মিসাইল সাবমেরিন।
আসলে, ৭ হাজার টন ওজনের ‘এইএনএস আরিদমন’ নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সাবমেরিনটিকে ৩,৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের কে-৪ নিউক্লিয়ার ওভারহেড সমৃদ্ধ ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপনের করার উপযোগী করে ডিজাইন ও তৈরি করা হয়েছে।
এটি সার্ভিসে আসায় বর্তমানে ভারতের নৌবাহিনীতে পরমাণু শক্তিচালিত নিউক ব্যালেস্টিক মিসাইল সাবমেরিনের সংখ্যা হলো ৩টি। যার মধ্যে ৩টি অরিহন্ত ক্লাস নিউক্লিয়ার পাওয়ারড সাবমেরিন এবং ১৬টি কনভেনশনাল ডিজেল ইলেক্ট্রিক সাবমেরিন রয়েছে।
গত ২০১২ সালের দিকে রাশিয়ার কাছ থেকে ১০ বছর মেয়াদে লিজে নেওয়া ১টি আকুলা ক্লাস-২ (আইএনএস চক্র) নিউক্লিয়ার পাওয়ারড এ্যাটাক সাবমেরিন ব্যবহার করে। তা পরবর্তীতে লিজচুক্তি শেষ হওয়ায় ২০২১ সালে রাশিয়ার কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
এছাড়া, গত ২০১৯ সালে নতুন করে আরেকটি আকুলা ক্লাস ৩ মডেলের নিউক্লিয়ার পাওয়ারড অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN) প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১০ বছর মেয়াদে লিজে আনার চুক্তি করে ভারত। এটি গত ২০২৫ সালে সার্ভিসে আসার কথা থাকলেও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তা আগামী ২০২৮ সালে ভারতের নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এদিকে, ভারতের ওডিসা রাজ্যের বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে গত শুক্রবার ‘এইএনএস আরিদমন’ নিউক্লিয়ার পাওয়ারড ব্যালেস্টিক মিসাইল সাবমেরিনের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ৬,৬৭০ টন ওজনের স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি’ (INS Taragiri) নৌবাহিনীতে কমিশনিং লাভ করে।
এপ্রিল ২০২৬ অনুযায়ী, ভারতের নৌবাহিনীতে মোট প্রায় ১৫০টির অধিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং অন্যান্য সহায়ক জাহাজ রয়েছে। এছাড়া, আগামী ২০৩০-৩৫ সালের মধ্যে নেভাল ওয়ারশিপের আকার ২০০টির অধিক করার মহা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটির নৌবাহিনী।
বর্তমানে ভারতের নৌবাহিনীতে ২টি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, ১৯টি সাবমেরিন, ১৩টি ডেস্ট্রয়ার, ১৯টি ফ্রিগেট, ২৩টি কর্ভেট, ১০টি অফসর প্রট্রোল ভ্যাসেল, ১১৭টি লাইট পেট্রোল বোট, এবং অন্যান্য সহায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ নেভাল শিপ রয়েছে।
লেখা: সিরাজুর রহমান

