বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারির রেশ কাটতে না কাটতেই জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা ভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্ট ‘সিকাডা’ (BA.3.2)। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওমিক্রনের এই নতুন উপ-প্রজাতিটি পূর্ববর্তী ভেরিয়েন্টগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক এবং এর গঠনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন সংখ্যা চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ২০২৪ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভেরিয়েন্টটি ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে মোট করোনা সংক্রমণের প্রায় ৩০ শতাংশই ছিল এই ‘সিকাডা’ ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, BA.3.2 ভেরিয়েন্টটিতে অন্তত ৭০ থেকে ৭৫টি স্বতন্ত্র মিউটেশন ঘটেছে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা বিদ্যমান ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অনেকাংশেই হ্রাস পেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সিকাডা সংক্রমণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর উপসর্গগুলো অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ সিজনাল ফ্লুর মতো। ফলে রোগীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যা অজান্তেই সংক্রমণের বিস্তার ঘটাচ্ছে। পেন্টাগন বা সিডিসি-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে সাতটি প্রধান লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ দিন প্রচণ্ড গলা ব্যথা হয়। এরপর শুকনো কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট এবং শরীরের জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় তীব্র মাথাব্যথা এবং শারীরিক অবসাদ সিকাডা সংক্রমণের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও দ্বিতীয় দিন থেকে বমি বমি ভাব বা ডায়েরিয়ার মতো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেহেতু সিকাডা ভেরিয়েন্টটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম, তাই কোনো উপসর্গকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বরের আড়ালে এটি ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। ভাইরাসের বিবর্তন রুখতে বিশ্বব্যাপী নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি পালনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

