প্রধান খবর

কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ: যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আকস্মিক পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘ জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে। সব আলোচনা ও সমীকরণ শেষে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইতিমধ্যেই তিনি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থানকে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের (এমপি) এক বিশাল অংশের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন বার্নহ্যাম। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি লেবার পার্টির মোট ৪০৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩২২ জনের ল্যান্ডস্লাইড সমর্থন ঘরে তুলতে সক্ষম হন। দলের নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে অবস্থান নিশ্চিত করতে তার আর মাত্র একজন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় বার্নহ্যাম বলেন, “সবকিছু এখন খুব বাস্তব মনে হতে শুরু করেছে।”

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম ৩২৩টি মনোনয়ন পেয়ে গেলে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনীয় ৮১টি সমর্থন জোগাড় করা অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে আর সম্ভব হবে না। ফলে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তথা সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী আল কার্নস বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দেওয়ায় লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসার পথ কার্যত একেবারেই মসৃণ হয়ে গেছে বার্নহ্যামের। দলটির কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তারা প্রথম দিন ভোট দিতে না পারলেও আগামী সোমবার সংসদে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে বার্নহ্যামকে সমর্থন জানাবেন।

জনমত জরিপ ও দলীয় সমীক্ষা অনুযায়ী, লেবার পার্টির সমর্থক ও সাধারণ মানুষের কাছে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অত্যন্ত জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। বিগত প্রায় এক দশক ধরে তিনি সফলতার সাথে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ এই প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বা ‘উত্তরাঞ্চলের রাজা’ নামেও পরিচিত। এর আগে ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি লি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রীর গুরুদায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বার্নহ্যাম। তবে এবার আর কোনো বাধা থাকছে না। লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী বৃহস্পতিবার। সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির প্রধান নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর পর আগামী ২০ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *