ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় একটি নির্মাণাধীন টানেল প্রকল্পে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া স্থানটি থেকে নতুন করে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হলে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রাকৃতি এই বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কেরালার ওয়ানাদ এবং কোঝিকোড় জেলাকে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছিল। নির্মাণাধীন এই ‘আনাক্কোম্পয়িল-মেপ্পাদি টানেল’ প্রকল্প এলাকায় হঠাৎ করেই পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। ঘটনার সময় সেখানে বেশ কিছু শ্রমিক ও প্রকৌশলী কর্মরত ছিলেন। আকস্মিক এই ধসে মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে যায় প্রকল্পের একাংশ এবং কর্মরত ব্যক্তিরা মাটির নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কেরালা রাজ্যের মন্ত্রী এ পি অনিল কুমার গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে থাকায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া আহত ১০ জনকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অন্তত ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এই টানেল প্রকল্পটি ওয়ানাদ এবং কোঝিকোড় জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে এই পাহাড়ি অঞ্চলে পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা না করে খননকার্য চালানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

