ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বজায় রাখতে মার্কিন প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, হোয়াইট হাউসের এই বৈরী পদক্ষেপ সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতির একটি স্পষ্ট ও বড় ধরনের লঙ্ঘন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ক্ষুব্ধ পোস্টে আরাগচি সরাসরি মার্কিন প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ইরান এখন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দেওয়া কথা ও চুক্তি অক্ষরে অক্ষরে রেখেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদটি সরাসরি লঙ্ঘন করছেন।” যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার নীতিকে তাদের ধারাবাহিক ভুলের অংশ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এই মহতি চুক্তি লঙ্ঘনটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্যান্য ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপেরই একটি নতুন সংস্করণ।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি ও অন্যান্য কূটনৈতিক আলোচনা যখন একটি সূক্ষ্ম সুতোয় ঝুলছে, ঠিক তখন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে আবারও তুঙ্গে নিয়ে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বা বাইডেন প্রশাসনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান মার্কিন প্রশাসনও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির যে নীতি নিয়েছে, তা এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে পুরোপুরি অকার্যকর করে তুলতে পারে।
পেন্টাগন ও ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের একটি কঠিন বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে পোস্টের শেষে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, একতরফাভাবে কোনো চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আগামী দিনগুলোতে যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে হয়, তবে তা উভয় পক্ষকেই সমানভাবে এবং সমমর্যাদার সাথে মেনে চলতে হবে; অন্যথায় ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

