আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সব ধরনের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে বর্তমানে কার্যকর মুনাফার হারই বহাল থাকবে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের একটি বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। এই সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, হার কমানো হলে সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতো, তবে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর বাজার পরিস্থিতি ও ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার পর্যালোচনা করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ গত বছরের জুলাইয়ে সীমিত পরিসরে হার সমন্বয় করা হলেও এরপর থেকে তা স্থিতিশীল রয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১.৯৮ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১.৯৩ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১১.৮৩ শতাংশ এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদি হিসাবে সর্বোচ্চ ১১.৮২ শতাংশ মুনাফা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা বহাল থাকছে।
এদিকে নতুন অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে এই কর চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হবে না; বরং আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে প্রকৃত করের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। অতিরিক্ত কর কর্তন হলে তা ফেরত পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে টিআইএন বাধ্যতামূলক হওয়ায় কর সমন্বয়ের সুবিধা আরও কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

