মাদ্রাজ হাইকোর্টের গরু জবাই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে রাজ্য সরকার। অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন ‘টিভিকে’ সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা বিশেষ আবেদন বা ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’-এ বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সংক্রান্ত যে আইন বিদ্যমান রয়েছে, হাইকোর্টের দেওয়া রায় তার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উচ্চ আদালত সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে এবং রাজ্য আইনসভার একচেটিয়া কাজে হস্তক্ষেপ করেছে।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির স্বার্থে ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ইসলামের পবিত্র ঈদুল আজহাসহ অন্য যেকোনো দিন প্রকাশ্যে বা অননুমোদিত স্থানে গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তামিলনাড়ুর কট্টরপন্থি ও হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ‘ইন্দু মাক্কাল কাচ্চি’-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ওই রায় দিয়েছিলেন। শুনানিতে হাইকোর্ট সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো কিছু রায়ের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, কোরবানি ঈদে গরু কোরবানি করা ইসলামের কোনো অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়।
তবে বর্তমান রাজ্য সরকারের দাবি, হাইকোর্টের এই নির্দেশ ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর সরাসরি পরিপন্থি। বিদ্যমান ওই আইনে স্পষ্ট বলা আছে— ১০ বছরের বেশি বয়সী যেসব গবাদিপশু কোনো কাজ করতে বা প্রজননে অক্ষম, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও প্রত্যয়ন সাপেক্ষে শুধু সেইসব গরু বা বাছুর জবাই করা যাবে।
টিভিকে সরকারের মতে, আদালত সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইনি অসংগতি তৈরি করেছে এবং উচ্চ আদালত তার নিজস্ব এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। এখন দেখার বিষয়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই সুদূরপ্রসারী রায়ের বিপরীতে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেন।

