প্রধান খবর

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের চতুর্থ দিন: ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৫০০ মরদেহ উদ্ধার

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্পের চার দিন পরও উপদ্রুত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরাসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত শহরের ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা এখনো সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চালানো হচ্ছে। প্রতিদিনই যেমন নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে, তেমনি অলৌকিকভাবে কাউকে জীবিত খুঁজে বের করার চেষ্টাও থেমে নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্ধার অভিযান এত দ্রুত শেষ হওয়ার নয়। সময় যত গড়াচ্ছে আটকে থাকাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত কমে আসছে, তবুও ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো স্বজনেরা জীবিত থাকতে পারেন-এমন ক্ষীণ আশাই উদ্ধারকর্মীদের প্রতিকূলতার মাঝেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাচ্ছে।

গত বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভেনেজুয়েলায় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি অতি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এই দুটি শক্তিশালী ভূকম্পনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। ভূবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডাবলেট’ নামের এই জোড়া কম্পনের অল্প সময়ের ব্যবধানেই দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আধুনিক নগরীগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই দুর্যোগের যে ব্যাপকতা, তাতে শেষ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বুধবারের এই জোড়া ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ, বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার জর্জ রদ্রিগুয়েজ জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৭৪টি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে। সরকারিভাবে এখনো নিখোঁজ মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা না হলেও, দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি-এখনো অন্তত ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই ধসে পড়া কংক্রিটের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

মহাবিপর্যয়ের পর দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্তত ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে, ধসে পড়া স্বদেশের আবর্জনার পাশে বসে নিখোঁজ প্রিয়জনদের জন্য প্রহর গুনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *