প্রধান খবর

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার

প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ার দীর্ঘ ৯৬ ঘণ্টা পর এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে এই অলৌকিক উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। রোববার (২৮ জুন) ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে বিশেষ অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন নিরাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে চার দিন পর এই দুইজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উদ্ধারের পরপরই বাবা ও ছেলেকে জরুরি চিকিৎসার জন্য স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় চারপাশের উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, বিশেষায়িত অনুসন্ধান ক্যামেরা ব্যবহার করে ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপে টানা ১২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধারকারী দলটি তাদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেখানে ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির সদস্যদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বিশেষায়িত আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম যৌথভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। এর আগের দিনও এই যৌথ দল ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেছিল।

দীর্ঘ চার দিন যমে-মানুষে লড়াই করা এই বাবা-ছেলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য জানান, “ধ্বংসস্তূপের নিচে চার দিন আটকে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তারা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাদের শরীরে তীব্র পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আমরা দ্রুত তাদের শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।” তবে চারপাশের পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় উদ্ধার প্রক্রিয়াটি বেশ সাবধানে ও ধীরে চালাতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে গোল্ডেন আওয়ার (Golden Hour) বলা হয়, যার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও রোববার পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজ হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার আশা ততটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তাসত্ত্বেও, এই বাবা-ছেলের ফিরে আসা অলৌকিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *