ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত, রোমাঞ্চকর এবং একই সঙ্গে স্মরণীয় এক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই গোল চিরদিনের জন্য অমর হয়ে আছে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে। প্রায় চার দশক পর ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ম্যাচের বলটি এবার উঠতে যাচ্ছে নিলামের মঞ্চে।
আন্তর্জাতিক নিলামকারী প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশন জানিয়েছে, বলটির প্রাথমিক বা ন্যূনতম মূল্য ধরা হয়েছে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি। তবে ফুটবল বিশ্বের সংগ্রাহকদের তুমুল আগ্রহের কারণে নিলামকারীদের ধারণা, নিলামের হাতুড়ির শেষ ঘা পড়ার আগে বলটির মূল্য এই অঙ্ককে ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা ম্যারাডোনার দুটি রূপ দেখেছিলেন। প্রথমটি ছিল শতাব্দীর সবচেয়ে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, যেখানে তিনি লাফিয়ে উঠে মাথার বদলে হাতের সুক্ষ্ম ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে সেই গোল নিয়ে করা ম্যারাডোনার মন্তব্যটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা উক্তি— ‘গোলটি হয়েছিল কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ তবে সেই একই ম্যাচে ইংল্যান্ডের পাঁচ-ছয়জন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে একা ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে তিনি যে দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন, তা আজ ফুটবল ইতিহাসে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত।
এর আগে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ওই ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরিহিত জার্সিটি ৯ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা ক্রীড়া স্মারকের বাজারে হইচই ফেলে দেয়। এবার একই ম্যাচের বলটি নিলামে ওঠায় বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ফুটবলটিও পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে। হেরিটেজ অকশনের ক্রীড়া স্মারক বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজাল বলটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই স্মারকের সঙ্গে তুলনা করার মতো আর কোনো উদাহরণ নেই। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অদ্বিতীয় ফুটবল স্মারক।”
ক্রীড়া স্মারকের বাজারে একসময় বাস্কেটবল, বেসবল কিংবা আইস হকের আধিপত্য থাকলেও লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কিলিয়ান এমবাপের যুগে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সংগ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা ও আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ফলে চলমান বিশ্বকাপের আবহে এই ঐতিহাসিক সামগ্রীর মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ফুটবলপ্রেমী এবং ধনকুবের সংগ্রাহকদের নজর এখন হেরিটেজ অকশনের নিলাম মঞ্চের দিকে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তের এই জীবন্ত স্মারকটি শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যায়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।

