দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫২০ জনেরও বেশি মানুষ। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের পর স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদ আর ধ্বংসস্তূপের স্তূপে এক শোকার্ত ও বিপর্যস্ত জনপদে পরিণত হয়েছে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ধসে পড়া শত শত বাড়িঘর ও ভবনের নিচে এখনও প্রায় ২০০ জন মানুষ আটকা পড়ে আছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিশাল স্তূপ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বুধবারের এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এক বিপর্যয়কর পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থাটির আশঙ্কা, ক্ষয়ক্ষতির যে ভয়াবহ রূপ প্রাথমিক চিত্রে উঠে এসেছে, তাতে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে রাজধানী কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিপর্যয়ের এই কঠিন মুহূর্তে ভেনিজুয়েলার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বার্তায় ভেনেজুয়েলাকে দ্রুত ও বড় পরিসরে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কার্যকর উপায়ে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও দুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করেছে।

