ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র ও নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে স্বস্তির খোঁজে অননুমোদিত জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ ও কিশোর।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি উচ্চপর্যায়ের সংকট মোকাবিলা বৈঠকের পর ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জানান, তীব্র গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে অসচেতনতার কারণে এই তরুণেরা সংকটের প্রথম শিকার হয়েছে। তিনি চলমান এই ঘটনাগুলোকে একটি “মর্মান্তিক দুর্যোগ” হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এদিন ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আকস্মিকভাবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
ফরাসি আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ‘লে এরবিয়েরস’ এলাকায় মঙ্গলবার তাপমাত্রা রেকর্ড ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তীব্র এই দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের সময় যেকোনো ধরনের অননুমোদিত বা নিরাপত্তাহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ–পূর্ব ফ্রান্সের কারপন্ত্রাস এলাকায় নিজ বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বন্ধ গাড়ি থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়েই তাদের মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, বন্ধ গাড়ির ভেতরে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অতিরিক্ত গরমের কারণেই শিশু দুটির শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান এই তীব্র দাবদাহ ও চরম আবহাওয়া জনজীবনকে স্থবির করে তুলেছে। পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই এ ধরনের চরম ও বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ আকারে দেখা দিতে পারে।

