প্রধান খবর

৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হবু স্বামীকে হত্যা করলেন কিশোরী

বিয়েতে সম্মতি না থাকায় হবু স্বামীকে পাহাড়ের ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার ঐতিহাসিক লোহাগাড দুর্গে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরী এবং তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে ব্যবসায়ী কেতন আগারওয়ালের সঙ্গে অভিযুক্ত সিয়া গোস্বালের বিয়ের কথা ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজনও চলছিল বেশ জোরেশোরে। রাজস্থানের জয়পুরে প্রায় ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি রাজকীয় প্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের যাতায়াতের জন্য দুটি প্রাইভেট বিমানেরও ব্যবস্থা করেছিল বরের পরিবার।
তবে পুলিশি তদন্তে জানা যায়, সিয়া এই বিয়েতে মোটেও সম্মত ছিলেন না। পারিবারিক চাপের কারণে বিষয়টি তিনি পরিবারকে সরাসরি জানাতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, এই হাইপ্রোফাইল বিয়ে এড়াতেই তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হবু স্বামী কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১৮ জুন নিজের জন্মদিনের অজুহাতে সিয়া তার হবু স্বামী কেতনকে নিয়ে পুনের লোহাগাড দুর্গে ঘুরতে যান। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা প্রেমিকের সহযোগিতায় কেতনকে আকস্মিকভাবে ধাক্কা দিয়ে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের পর খাদ থেকে কেতনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন সিয়া। তিনি দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কেতন খাদে পড়ে গেছেন। এমনকি নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হবু স্বামীর অকাল মৃত্যু নিয়ে একাধিক আবেগঘন ও শোকবার্তাসম্বলিত পোস্ট দেন। তবে ঘটনার তদন্তে নেমে সিয়ার বয়ানে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ।

পরবর্তীতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত তদন্তের একপর্যায়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিয়া গোস্বাল ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত কেতন আগারওয়ালের বাবা রাজস্থানের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সুপরিচিত আবাসন ব্যবসায়ী। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে তারা কোটি কোটি রুপি ব্যয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দুই পরিবারসহ পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ঘটনার নেপথ্যে থাকা আরও নানা দিক খতিয়ে দেখছে পুনে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *