চার বছর তো দূরের কথা, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুটবলে অনেক কিছু বদলে যায় জুলিয়ান আলভারেজ তার জীবনের গল্পই যেন সেই প্রমাণ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন দলের প্রথম সারির ব্যাকআপ, লাউতারো মার্তিনেজের পেছনে অপেক্ষায় থাকা এক তরুণ ফরোয়ার্ড। সৌদি আরবের কাছে বেদনাদায়ক হার ও মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পরই শুরু হয় তার উত্থান। পোল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করেন তিনি, আর এরপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে।
রিভার প্লেট অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা আলভারেজ ইউরোপে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির পর এখন খেলছেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে। কনমেবল কোপা লিবার্তাদোরেস, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা আমেরিকা জেতার মতো সব বড় ট্রফিই তার হাতে উঠেছে। দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন আর্জেন্টিনার প্রতিষ্ঠিত প্রথম একাদশের খেলোয়াড়। সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া, আক্রমণাত্মক প্রেসিং ও নিখুঁত ফিনিশিং সব মিলিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপেও তিনি আলো ছড়াতে প্রস্তুত।
২০২২ বিশ্বকাপে চার গোল করেছিলেন আলভারেজ। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড এবারও আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। জে গ্রুপে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে উত্তেজনা সবসময় থাকে এবং লক্ষ্য থাকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তার ভাষায়, “আমরা ফাইনালে যেতে চাই। জানি এটা সহজ হবে না অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং জয়-পরাজয় খুব সামান্য ব্যবধানে নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু আমরা যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুত থাকব এবং ধাপে ধাপে এগোব।”

