প্রধান খবর

কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ: কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার

নেত্রকোণায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব-১৪-এর একটি দল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন রিপন। পরবর্তীতে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও রিপন মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং তারা পরস্পর প্রতিবেশী। ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি পরিচিতি এনে দেওয়ার লোভ দেখাতেন রিপন। এভাবেই বিভিন্ন সময় তিনি ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকাভিত্তিক এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেখানে রিপন তার কৃতকর্ম স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে উক্ত শালিসে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ওই শালিসের ধারণকৃত একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুললে, অবশেষে ৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করে আসছিলেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’সহ বেশ কিছু সংলাপের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। ২০১৯ সালে চালু করা তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে বর্তমানে ১৯ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার দাবি অনুযায়ী, তার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে এই অন্যায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *