নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গম এলাকাগুলো থেকে এখনও সব তথ্য পৌঁছায়নি, ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলো থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বহু এলাকা এখনও পানিবন্দী ও মাটিচাপায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিখোঁজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষের নাম, যা উদ্ধারকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড় ঘেরা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে কাজ করার সময় আটকে পড়া কয়েকশ শ্রমিকের তথ্য নতুন করে তালিকায় যুক্ত করায় নিখোঁজের সংখ্যা একলাফে ১ হাজার ৯২৪ জনে গিয়ে পৌঁছেছে। মাটি ও পানির তীব্র স্রোতে অনেক শ্রমিক টানেলের ভেতরেই আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিখোঁজের তালিকায় অন্তত ৫৭৫ জন বিদেশী নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় দুর্যোগকবলিত অঞ্চলে অবস্থানরত পর্যটক ও বিদেশী কর্মী সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।বিশেষ করে রাসুয়া জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। প্রধান সড়ক ও স্থানীয় সব সংযোগ পথ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবুও দেশটির সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান ও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অবিরাম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় স্থাপন এবং উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহত ও নিখোঁজের এই পরিসংখ্যান আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

