একটি শিশু কেবল একটি পরিবারের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু নয়; বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ। সঠিক পরিচর্যা ও ইসলামী মূল্যবোধের অভাবে যে শিশু সমাজের বোঝা হয়ে উঠতে পারে, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তিনিই হতে পারেন আগামী দিনের আদর্শ সমাজসংস্কারক। ইসলাম কেবল সন্তান জন্মদানকে মূল লক্ষ্য মনে করে না; বরং তাকে ঈমান, তাকওয়া, আদব-আখলাক ও মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করে গড়ে তোলার এক পূর্ণাঙ্গ ও সুষম জীবনব্যবস্থা উপহার দিয়েছে।
পারিবারিক অনুশাসন শিথিল হওয়া, কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে ইসলামের সন্তান প্রতিপালন নীতি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতাকে সতর্ক করে ঘোষণা করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর’ (সুরা : আত-তাহরিম, আয়াত : ৬)। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সন্তানের কেবল অন্ন, বস্ত্র ও বস্তুগত শিক্ষার জোগান দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং তার ঈমান, আমল ও আখিরাতের মুক্তি নিশ্চিত করা অভিভাবকের অন্যতম আবশ্যিক কর্তব্য।
সন্তানকে আল্লাহর অর্পিত এক মহামূল্যবান ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসলাম সৎ জীবনসঙ্গী নির্বাচন, হালাল জীবিকা গ্রহণ এবং জন্মের পূর্ব থেকেই দোয়ার মাধ্যমে নেক সন্তান কামনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। শৈশব থেকেই সন্তানকে তাওহিদের শিক্ষা দেওয়া, সালাতের নির্দেশ প্রদান এবং লুকমান (আ.)-এর নসিহতের আলোকে শিরকমুক্ত জীবন গড়ে তোলা পিতা-মাতার জন্য কেবল একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি মহান ইবাদত। পিতা-মাতাই সন্তানের জীবনের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, তাই ঘরের অভ্যন্তরীণ দ্বীনি পরিবেশ ও সত্যবাদিতা সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ভার্চুয়াল আসক্তি ও অশ্লীল কনটেন্ট থেকে শিশুর বিবেক ও চরিত্র রক্ষা করা অভিভাবকদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তিকে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ না করে এর ভারসাম্যপূর্ণ ও নৈতিক ব্যবহার শেখানোই ইসলামের শিক্ষা। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা ও সুযোগ-সুবিধায় সমতা রক্ষা এবং দেহে ও আত্মায় প্রভাব ফেলা হালাল রিজিকের বুনিয়াদ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পার্থিব ধন-সম্পদ নয়, বিশুদ্ধ ঈমান, সচ্চরিত্র ও সুশিক্ষাই হলো সন্তানদের জন্য রেখে যাওয়া পিতা-মাতার সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার।

