ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ এবন আল-রেজা কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষের জন্য বড় ধরনের ‘চমক’ হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। তবে সুরক্ষার স্বার্থে এই নতুন সামরিক সক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য কৌশলগতভাবেই গোপন রাখা হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের প্রভাবশালী বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে আমাদের গোপন চমকগুলো বিস্তারিত জনসমক্ষে আনা সমীচীন নয়। তবে দেশীয় প্রযুক্তি, তরুণ সামরিক গবেষকদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের চলমান নিবিড় কার্যক্রমের ওপর ভর করে-আল্লাহর ইচ্ছায়-খুব শীঘ্রই শত্রুদের জন্য বড় ধরনের চমক অপেক্ষা করছে।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ইরানের প্রধান প্রতিপক্ষদের মনে রাখা উচিত; তারা যথাসময়ে এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতেই এই অভিনব সামরিক সক্ষমতার বাস্তব মহড়া দেখতে পাবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সংঘাতের ছয় মাস পূর্তির সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে তেহরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই তীব্র হুঁশিয়ারি এলো। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ইরানের কিছু সামরিক অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটি তাদের মূল পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে বলে জোরালো দাবি করছে। সরাসরি সামরিক তথ্য ফাঁস না করে এমন রহস্যময় হুঁশিয়ারি মূলত যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখার এবং কৌশলগত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার এক সুচিন্তিত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপ্টর ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও পেন্টাগন অস্ত্র ঘাটতির বিষয়টি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছে, তবুও পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাতীয় মজুত পুনর্গঠনের তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিয়েছে।
একদিকে ড্রোন, উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে সামরিক উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। পাল্টাপাল্টি কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি সংঘাত নিরসন ও কৌশলগত প্রণালিগুলোতে সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তেহরানের নতুন এই প্রযুক্তিগত ও সামরিক ‘চমক’-এর ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চিত সমীকরণের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

