প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে তছনছ হয়ে গেছে নেপালের জনজীবন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোট। জেলাটিতে স্থাপন করা একটি সেনাক্যাম্পকে আপাতত অস্থায়ী উদ্ধারকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার বাইরে এখন নিখোঁজ স্বজনদের আশায় আকুল প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন শত শত মানুষ।
উদ্ধারকেন্দ্রের দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সন্তান কোলে এক নারীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়; বন্যার প্রবল স্রোত ভেসে নিয়ে গেছে তার বাবা, মা ও স্বামীকে। পরিবারের মূল স্তম্ভদের হারিয়ে দিশেহারা এই নারী জানান, দুর্যোগের পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ মিলছে না।
আহত বহু মানুষকে এই কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এক চালক জানান, রাসুয়া এলাকায় কাজ করার সময় তিনি প্রচণ্ড স্রোতের মুখে পড়েন। কীভাবে যে প্রাণ রক্ষা পেল তা এখনো অবিশ্বাস্য তার কাছে। তবে নিজে বাঁচতে পারলেও তার ২০ জনের বেশি সহকর্মী ও বন্ধু হয় প্রাণ হারিয়েছেন, না হয় নিখোঁজ রয়েছেন।
স্মরণকালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজারো পরিবার স্বজন হারিয়ে এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও উপদ্রুত এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে অবিরাম উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

