দুবাই থেকে ব্যাংককগামী একটি উড়োজাহাজে ঘুমন্ত অবস্থায় নারী যাত্রীকে আপত্তিকর স্পর্শ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে এক পাকিস্তানি যুবককে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন থাইল্যান্ডের একটি আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১ লাখ ২০ হাজার বাত জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাজা ভোগ শেষে ভবিষ্যতে থাইল্যান্ডে তার প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং নাম বিউট অর্ননিচা। গত ৩ আগস্ট নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। ঘটনার দিন তিনি তার চার বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে সাথে নিয়ে উক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই নারী জানান, দুবাই থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণ পরেই তিনি দেখতে পান, কাছাকাছি আসনে বসে থাকা উক্ত পাকিস্তানি যাত্রী তার আসনের ওপর হাত চেপে রেখেছেন। বিষয়টি প্রথমদিকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি এবং পরবর্তীতে সন্তানকে পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ফ্লাইটে ওঠার পূর্বে ঘুমের ওষুধ সেবন করায় তিনি অত্যন্ত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।
তবে কিছু সময় পর ঘুম ভাঙলে তিনি নিজের শরীরের সংবেদনশীল অংশে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ অনুভব করেন। সেই মুহূর্তে একটি কম্বল দিয়ে আবৃত ছিলেন তিনি। শুরুতে ঘটনাটিকে স্বপ্ন বা কোনো ভুল অনুভূতি বলে মনে হলেও সন্দেহ তীব্র হলে তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে লক্ষ্য করেন, ওই পুরুষ যাত্রী তার দিকে অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন এবং ফ্লাইটের বিনোদন ব্যবস্থার স্ক্রিন নিয়ে চাতুরতার সাথে নড়াচড়া করছেন।
উড়োজাহাজটি ব্যাংককে অবতরণের প্রায় ৯০ মিনিট আগে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে জানান ওই নারী। কেবিন ক্রু সদস্য অভিযুক্ত যাত্রীর মুখোমুখি হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। পরবর্তীতে ওই যুবক ভুক্তভোগী নারীর কাছে কেঁদে কেটে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, বিষয়টি তিনি সামাজিকভাবে মীমাংসা করতে সম্মত হননি। বিমানটি অবতরণের পরপরই পুলিশ ডাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঘটনার হালনাগাদ তথ্যে ভুক্তভোগী জানান, থাইল্যান্ডের ট্যুরিস্ট পুলিশ তাকে আইনি সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং থাইল্যান্ডে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশ দেন।

