পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) শীঘ্রই ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে বলে তীব্র হুঙ্কার দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা ও বিজেপি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার যাদবপুরে আয়োজিত ‘বন্দে মাতরম’ শীর্ষক এক বিশাল জনসভায় বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, উগ্র আদর্শের প্রভাব ও কথিত ‘হুমকি সংস্কৃতি’ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ ও দেশপ্রেমিক মতাদর্শের শিক্ষার্থীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অতীতে ওঠা ‘আজাদি’ স্লোগানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি ভারতের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
শুভেন্দু বলেন, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বীর বিপ্লবীদের পরম আত্মত্যাগে অর্জিত এই সার্বভৌম স্বাধীন দেশে তথাকথিত বা নতুন কোনো স্বাধীনতার অজুহাত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলনকারীদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, এই স্বাধীনতার দাবি আসলে কিসের জন্য-মাদক সেবনের অবাধ ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য কি না। কথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি জানান, এই ইস্যুতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
পহেলগাঁও ও অবন্তীপুরায় নৃশংস জঙ্গি হামলায় সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণহানির ঘটনায় যাদবপুরের শিক্ষার্থীরা কেন প্রতিবাদ জানায়নি, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন এই বিজেপি নেতা। উল্টো ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল বের করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু দাবি করেন, দেশবিরোধী ও পাকিস্তানি জঙ্গি আস্তানা নিশ্চিহ্ন করতে ভারতীয় সামরিক অভিযান পুরোপুরি সফল হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, ভারত খুব শীঘ্রই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনবে।

