প্রধান খবর

বাংলাদেশকে ১২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দিচ্ছে জার্মানি

বাংলাদেশের উপকূলীয় পরিবেশ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং শিল্প-আবাসিক খাতে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জার্মানি। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে মোট ১২ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭২ কোটি টাকা) অনুদান প্রদান করবে দেশটি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও ইউরোপ উইংয়ের প্রধান ড. রোকসানা তারান্নুম। অন্যদিকে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকে সই করেন দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট। চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত এই অনুদান সম্পূর্ণ অনুদান হিসেবে বাংলাদেশকে দেবে জার্মানি, যা দুটি ভিন্ন জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রথম প্রকল্প ‘বেটার প্রটেকশন অব ম্যানগ্রোভস, সোয়াম্প ফরেস্টস অ্যান্ড মেরিন এরিয়াস (কানেক্ট)’-এর জন্য ৫ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ ও জলাভূমির টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি বন অধিদপ্তর যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে। স্থানীয় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হবে এই প্রকল্পের অধীনে।

অপরদিকে, ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ইই৪ডেভ)’ শীর্ষক দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৭ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ কোটি ১২ লাখ টাকা। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং বিএসটিআই যৌথভাবে প্রজেক্টটি পরিচালনা করবে। মূলত শিল্পকারখানা ও আবাসিক বাসাবাড়িতে জ্বালানির অপচয় কমিয়ে দক্ষতা বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকেই জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। এ পর্যন্ত দেশটি বাংলাদেশকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে জিআইজেডের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১০৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে দেশে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সফলতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *