টানা ভারী বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ধলাই নদীর ইসলামপুর এলাকার একটি বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় অন্তত চার থেকে পাঁচটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ, আর প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বুধবার (৯ জুলাই) থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার দিনভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। দিনের কিছু সময় বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও দুপুরের পর আবারও ভারী বর্ষণ শুরু হয়। রাতে কিছুটা কমলেও পরে ফের বৃষ্টি নামে। বৃহস্পতিবার সকালেও হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনের বাকি সময়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মনু নদীর রেলওয়ে পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে মনু নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও এসব নদীতেও পানির প্রবাহ বাড়ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া ধলাই নদীর একটি অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে, তাহলে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

