হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর জন্য দেশটিকে ‘গুরুতর পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করার ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাতিল হওয়া জেনারেল লাইসেন্সের আওতায় অনুমোদিত ইরানি তেল-সংক্রান্ত লেনদেন শেষ করার জন্য ১৭ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। এরপর থেকে ওই লাইসেন্সের আওতায় নতুন কোনো লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করার এই সিদ্ধান্তকে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সংকট সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন আলোচকরা আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে একদিকে চাপ বৃদ্ধি পেলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন সব পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দোহা।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরবও। রিয়াদ বলেছে, সমুদ্রপথে নৌচলাচল, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে এমন সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার দায় এবং এর সম্ভাব্য সব পরিণতির জন্য তেহরানকেই দায়ী করেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর থেকে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে আসছে। ইরানের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সেই সমঝোতা ভঙ্গের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন এবং সাম্প্রতিক পদক্ষেপও সেই নীতিরই অংশ।

