হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিক বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্টকম দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় জড়িত লক্ষ্যবস্তুতে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা শুধু অযৌক্তিক ও বিপজ্জনকই নয়, বরং চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিরও স্পষ্ট লঙ্ঘন। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিক শহরে ১০টি এবং কেশম দ্বীপের মেইসিন গ্রামে আরও চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তেহরান দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর থেকে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে সব প্রতিশ্রুতি পালন করে আসছে। ইরানের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওই সমঝোতা ভঙ্গের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন এবং সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রচেষ্টারই অংশ।
এখন পর্যন্ত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা-এ হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি এবং এর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

