প্রধান খবর

রাশিয়ার হয়ে লড়তে গিয়ে ইউক্রেনের খারকিভ সীমান্তে পথ হারালেন ২ বাংলাদেশি তরুণ

রাশিয়ার পক্ষে ভাড়াটে সেনা হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে ফ্রন্ট লাইনের কাছে দিকভ্রান্ত হয়ে বনাঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো দুই বাংলাদেশি তরুণের সন্ধান মিলেছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (HUR) কর্তৃক ফাঁস ও প্রকাশ করা এক রুশ সেনার রেকর্ডকৃত ফোনালাপ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মস্কো বাহিনী এখন ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের সম্মুখ সমরে বাংলাদেশের রিক্রুটদের (নতুন সেনা) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে এক রুশ সেনাকে তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে বলতে শোনা যায়, দুজন বাংলাদেশি নাগরিক তাদের মূল সামরিক ইউনিট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্রন্ট লাইনের কাছের একটি ঘন বনাঞ্চলে তিন দিন ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। চরম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে থাকা ওই দুই বিদেশি নাগরিক রুশ সেনাদের কাছে নিজেদের ‘কল সাইন’ (সামরিক গোপন পরিচয়) কিংবা তারা নির্দিষ্ট কোন ইউনিটের সদস্য—তাও সঠিকভাবে বলতে পারছিলেন না।

রুশ ভাষায় হওয়া সেই কথোপকথনের অনুবাদ থেকে জানা যায়, ওই রুশ সেনা তাঁর অপর এক সহকর্মীকে বলছেন, ‘‘রোম, ওরা কিছুই জানে না। নিজেদের কল সাইনও মনে নেই। ওরা বাংলাদেশ থেকে এসেছে—এমন দুজন। একজনের নাম রুবি বা এমন কিছু, আর অন্যজনের নাম মইশেল। ওরা আমাকে ওদের কাঁধের ব্যাজ দেখিয়েছে—একটি বাঘের প্রতীক আঁকা ব্যাজ, যাতে লেখা ‘৬ষ্ঠ অ্যাসাল্ট’। তিন দিন ধরে ওরা এখানে পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এইচইউআর)-এর তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই তরুণেরা রুশ সেনাকে বেঙ্গল টাইগারের লোগো এবং “৬ষ্ঠ অ্যাসাল্ট” লেখা একটি শোল্ডার প্যাচ বা কাঁধের ব্যাজ দেখান। তারা তাদের মূল ব্যাটালিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। ইউক্রেনীয় সংস্থার মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই আড়ি পাতা কথোপকথনটি আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, ক্রেমলিন এখনো উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। তবে এই বাংলাদেশিরা কীভাবে রাশিয়ায় গিয়ে রিক্রুট হয়েছেন বা তারা কোন এজেন্সির মাধ্যমে সেখানে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এর আগের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ও যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্যে দেখা গেছে, রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে এসে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়া বিদেশি নাগরিকদের সাধারণত বন্দি বিনিময় (Prisoner Exchange) প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহ দেখায় না মস্কো। ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের এই ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ে ফেঁসে গিয়ে বহু বিদেশি ভাড়াটে সেনাকে দীর্ঘ সময় ধরে ইউক্রেনের আটক কেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত দুর্বিষহ বন্দী জীবন কাটাতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *