পরকীয়া প্রেমের পথে কাঁটা সরাতে স্বামীকে খুনের এক শিউরে ওঠা বর্বরোচিত ঘটনা সামনে এসেছে ভারতের তেলেঙ্গানায়। প্রথম চেষ্টায় বহুতলের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েও মারতে না পেরে, শেষমেশ হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন স্বামীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি টয়লেট ক্লিনার পুশ করে হত্যা করলেন পেশায় নার্স স্ত্রী। তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার ন্যালকাল গ্রামের এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ শুনে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্মমভাবে খুন হওয়া ওই যুবকের নাম প্রশান্ত (৩৫)। তিনি দীর্ঘদিন উপসাগরীয় (গালফ) দেশে কর্মরত ছিলেন এবং গত ২৭-২৮ জুনের দিকে বাড়িতে ফিরেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরেই তিনি তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অশান্তি শুরু হলে সন্ধ্যা ও তাঁর প্রেমিক অনিল মিলে প্রশান্তকে দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর ছক কষেন। এই কাজে সহায়তা করার জন্য তারা ভেঙ্কট সাই ওরফে বান্টি নামের আরেক স্থানীয় যুবককে নিজেদের দলে যুক্ত করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সহযোগী বান্টি প্রথমে প্রশান্তকে ডেকে নিয়ে কৌশলে অতিরিক্ত মদ্যপান করান। প্রশান্ত পুরোপুরি মাতাল হয়ে পড়লে বান্টি তাঁকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের মধ্যে একটি বানোয়াট ঝগড়া বাধানো হয়। ঠিক সেই সময় স্ত্রী সন্ধ্যা সেখানে উপস্থিত হন এবং বান্টি ও সন্ধ্যা দুজনে মিলে প্রশান্তকে ছাদ থেকে সজোরে নিচে ফেলে দেন। গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে সে যাত্রা বেঁচে যান প্রশান্ত। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সরকারি এবং পরে একটি উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাদ থেকে পড়েও স্বামী বেঁচে যাওয়ায় চরম মরিয়া ও হিংস্র হয়ে ওঠেন সন্ধ্যা। গত ৩০ জুন তিনি নিজের নার্সিংয়ের পেশাদার অভিজ্ঞতাকে অপরাধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রশান্ত যখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তখন তাঁর হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা লাগানো ছিল। সেই ক্যানুলা দিয়েই সন্ধ্যা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এবং সুকৌশলে স্বামীর শরীরে টয়লেট ক্লিনার এবং অন্য কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল (মাল্টিপল অর্গান ফেইলিওর) হয়ে করুণ মৃত্যু হয় প্রশান্তের।
গত ১ জুলাই প্রশান্তর মায়ের মনে ছেলের এই আকস্মিক ও সন্দেহজনক মৃত্যু নিয়ে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে। তিনি কোনো কালক্ষেপণ না করে সরাসরি স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ যখন সহযোগী বান্টিকে আটক করে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখনই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে।
বান্টি পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, “আমাদের মধ্যে প্রথমে ছাদে মারামারি হয়েছিল। তারপর ওর স্ত্রী সন্ধ্যা আসে। আমরা দুজনে মিলে ওকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিই। পুরো পরিকল্পনাটা সন্ধ্যারই ছিল, এই কাজের জন্য ও আমাকে মোটা অঙ্কের টাকাও দিয়েছিল।”
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ৪ জুলাই পুলিশ অভিযুক্ত ঘাতক স্ত্রী সন্ধ্যা, তাঁর প্রেমিক অনিল এবং সহযোগী বান্টিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তিন জনকেই রিমান্ড মঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

