প্রধান খবর

এবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালার পথে খামেনির মরদেহ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা দেশটির পবিত্র শহর কোমে সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কোমের ধর্মীয় আচার ও বিদায় পর্ব শেষে খামেনির মরদেহ এখন প্রতিবেশী দেশ ইরাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ভয়াবহ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্য নিহত হন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা এই শীর্ষ নেতার আকস্মিক মৃত্যুর পর দেশটিতে সাময়িক সরকারবিরোধী আন্দোলনের রেশ দেখা দিয়েছিল। তবে তেহরান প্রশাসন বর্তমানে এই বিশাল জানাজা ও দেশব্যাপী শোকমিছিলকে জাতীয় শক্তি এবং অভূতপূর্ব ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছে।

এর আগে সোমবার রাজধানী তেহরানে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তার ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার কোম নগরীতে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। এ সময় শোকার্ত জনতার হাতে লাল পতাকা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভমিশ্রিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিদেশি শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল ইসমাইল কায়ানি এই ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় আয়োজনের জন্য ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ব্যাপক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার উচ্চ প্রশংসা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই বিশেষ আয়োজন দুই প্রতিবেশী দেশের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাকে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে।” খামেনির জানাজা ও কফিন বহনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ইতিমধ্যে ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

খবরের বিস্তারে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার খামেনির কফিন ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। নাজাফে ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র বংশধর হযরত আলী (রা.)-এর পবিত্র মাজার এবং কারবালায় ইমাম হোসেন ও আব্বাস (রা.)-এর মাজারে তাঁর মরদেহ নিয়ে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ইরাকের এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আলী খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান এবং ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *