প্রধান খবর

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩,৩৪২: গৃহহীন ১৭ হাজার মানুষ

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে তিন হাজার ৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। শক্তিশালী এই ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৭০০ বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে রোববার (৫ জুলাই) ভেনিজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে আঘাত হানা এই শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে দেশের লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকারি ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশের ৮৫৬টি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৯০টি স্থাপনা সম্পূর্ণ ধসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

স্মরণকালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশটিতে জরুরি মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গৃহহীন হয়ে পড়া ১৭ হাজার ৩৪৫ জন বাসিন্দাকে তাৎক্ষণিক আশ্রয় দিতে ইতোমধ্যে ৭৯টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এ পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী কারাকাস থেকে ২৯ হাজার৫৬৭ জন সরকারি কর্মী এবং ২৭ হাজার ৪৮২ জন স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে ৪ হাজার ৮৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীকেও মোতায়েন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৫৮৫ টন খাদ্যসামগ্রী এবং ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮ লিটার নিরাপদ খাবার পানি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অস্থায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিবিরগুলোর মাধ্যমে ২৩ হাজার ৮২০ জন আহত ও অসুস্থ রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ জুন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনিজুয়েলায় যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মূল ভূকম্পনের পর দুর্গত এলাকাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৯৯৫টি আফটারশক (অনুকম্পন) রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *