নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে এক তরুণীকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর ফুফাতো ভাই সাকিব উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যা-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত।
এর আগে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী সদর উপজেলার মাইজদী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাকিব উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাদিয়া গ্রামের মো. সফিকের ছেলে।
র্যাব ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী এবং অভিযুক্ত সাকিব সম্পর্কে পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন। গত ৫ জুন ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর মায়ের সঙ্গে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই দিনই ফুফাতো ভাই সাকিব তাঁকে হাতিয়ার স্থানীয় গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে নিয়ে যান।
মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার দিকে সাকিব সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন সাকিব। পরে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন। বাড়িতে ফেরার পর তরুণী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানান।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাকিব আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ও নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। এরপর পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক আসামিকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

