প্রধান খবর

থানায় যাওয়ার পথেই মুসলিম শাশুড়িকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল জামাতা

প্রেমের বিয়ে এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজের শাশুড়ি বানো খানকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে জামাতা লাভকুশ বর্মার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বান্দা জেলার বিসান্ডা থানা এলাকার কোররাহি গ্রামে। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত লাভকুশ এবং তাকে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটিও।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তফসিলি জাতি সম্প্রদায়ের যুবক লাভকুশের সাথে মুসলিম সম্প্রদায়ের তরুণী গুল আফরোজের (আলিয়া) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক বছর আগে তারা পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর এই দম্পতি হায়দরাবাদে বসবাস শুরু করলেও চলতি বছরের শুরুর দিকে তারা পুনরায় গ্রামে ফিরে আসেন। তবে গুল আফরোজের মা বানো খান এই ভিন্ন ধর্মীয় বিয়েটি কোনোভাবেই মেনে নেননি। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। এর আগে স্থানীয় সালিশি বৈঠক এবং পুলিশের মাধ্যমেও বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

নিহতের মেয়ের দায়ের করা এজাহার (এফআইআর) অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের জেরে লাভকুশ বেশ কিছুদিন ধরে গুল আফরোজ ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল। প্রাণভয়ে গুল আফরোজ স্বামীর বাড়ি ছেড়ে মায়ের সাথে বাবেরু এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। গত শনিবার গ্রামে নিজেদের বাড়িতে চুরির খবর পেয়ে বানো খান তার মেয়েদের নিয়ে কোররাহি গ্রামে ফেরেন। কোনো বিপদের আশঙ্কায় তারা গ্রামে পৌঁছানোর আগেই পুলিশের জরুরি হেল্পলাইনে কল করে নিরাপত্তা চান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পরপরই বানো খান যখন লিখিত অভিযোগ দিতে থানার দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই লাভকুশ তার দুই চাচা ছোট লাল ও সাত্তুকে নিয়ে ওত পেতে থাকা হামলা চালায়। দুই সহযোগী বানো খানের হাত-পা চেপে ধরলে লাভকুশ কুড়াল দিয়ে তার ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুল আফরোজ ও তার বোন কোনোমতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন।

গুল আফরোজের দাবি, স্বামীর হুমকির বিষয়ে তিনি বারবার পুলিশকে জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশের দাবি, জরুরি কলে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য পরিবারটিকে থানায় যেতে বলেছিল। ভিন্ন দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিষয় হওয়ায় গ্রামে সাময়িকভাবে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *