মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে জুড বেলিংহামের জাদুকরী পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে ইংল্যান্ড। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে থ্রি লায়ন্সরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের মধ্যেই সমানে সমান লড়াই চলছিল। তবে মেক্সিকোর তুলনায় প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি দক্ষ ছিল ইংলিশরা। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে একটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক (প্রতিআক্রমণ) থেকে ডেডলক ভাঙেন জুড বেলিংহাম। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে বল বাড়িয়ে দেন বুকায়ো সাকার দিকে। সাকা বক্সে থাকা হ্যারি কেইনকে লক্ষ্য করে ক্রস বাড়ালে তা কেইনকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছায় বেলিংহামের কাছে। নিখুঁত এক ডাইভিং হেডে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে মেক্সিকোর রক্ষণভাগ। কিক-অফের পরপরই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তাঁর পাস থেকে বল পেয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ডি-বক্সের ভেতরে থাকা বেলিংহামকে থ্রু পাস দেন। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন বেলিংহাম।
এই জোড়া গোলের সুবাদে ইংল্যান্ড ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিলেও প্রথমার্ধের অন্তিম লগ্নে ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। ৪২তম মিনিটে মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস চমৎকার এক গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন। তাঁর এই গোলের পর আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো স্বাগতিক সমর্থকের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ফিরে আসে।
এর আগে মেক্সিকো সিটিতে দিনভর প্রবল বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের কারণে ফিফার নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী ম্যাচটি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের আট মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে পরবর্তী ৩০ মিনিট পর্যন্ত খেলা শুরু করা নিষিদ্ধ। বিলম্বে ম্যাচ শুরু হলেও মাঠের ফুটবলপ্রেমীদের গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে দুই দল। প্রথমার্ধেই তিন গোল হওয়ায় নকআউট পর্বের এই ম্যাচের দ্বিতীয় কাউন্টারটি আরও বেশি রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছে।

