রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হলে হলের আসনসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তানিম রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল এবং তিনি এমন কোনো বার্তা দেননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন নবীন শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমানের ফেসবুক আইডি থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের শিক্ষার্থীদের ফর্ম পূরণ করলে হলের সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। গ্রুপে থাকা একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বার্তাটি তারা দেখেছেন এবং পরে সেটি মুছে ফেলা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে তানিম রহমান বলেন, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং ফোনও হারিয়ে গিয়েছিল। তবে আইডি হ্যাকের বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে জানান তিনি। প্রতিবেদকের যাচাইয়ে দেখা যায়, অভিযোগের সময়সীমায় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্ট করা হয়েছে, যা তার দাবির সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি করেছে।
পরে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তানিম রহমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমার আব্বা সাংবাদিক, আমার চাচা আইনমন্ত্রী।’ পরে তিনি এই বক্তব্য অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বলতে চেয়েছেন আইনমন্ত্রী তার এলাকার মানুষ এবং তার নামে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি বলেন, দলের পক্ষ থেকে হলের আসন বা অন্য কোনো সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার নির্দেশনা নেই। বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো ফর্ম বিতরণের কার্যক্রমও চলছে না বলে তিনি দাবি করেন।

