প্রধান খবর

গলায় বাদাম আটকে সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

খাওয়ার সময় সামান্য অসচেতনতা যে কতটা বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত দেখল শেরপুরের নালিতাবাড়ীবাসী। নানার সাথে বিদ্যালয়ে বেড়াতে গিয়ে গলায় বাদাম আটকে মানহা মনি নামে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার তন্তর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশু মানহা মনি সিলেটের বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রুবেল হোসেনের একমাত্র কন্যাসন্তান। তার অকাল প্রয়াণে পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে পরিবারের সদস্যদের সাথে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার বেপারীপাড়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল শিশু মানহা মনি। তার নানা মোস্তফা আহমেদ স্থানীয় ‘তন্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নানার সাথে শিশুটি ওই বিদ্যালয়ে ঘুরতে যায়। সেখানে অবস্থানকালে তাকে খাওয়ার জন্য কিছু চিনা বাদাম দেওয়া হয়।

বাদাম খাওয়ার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত একটি আস্ত বাদাম শিশুটির শ্বাসনালিতে আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে শুরু করে। নাতনির এই আকস্মিক অবস্থা দেখে নানা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে; হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর ইবনে কাদের জানান, “হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। শ্বাসনালিতে শক্ত কোনো খাবার আটকে গেলে ফুসফুসে বাতাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা (যেমন: হেইমলিচ ম্যানুভার) না দেওয়া গেলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে। শিশুদের শক্ত খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *