অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ উগরে দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। গত সোমবার (২৯ জুন) পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বিজনোরে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি দাবি করেন, এই অর্থ কেলেঙ্কারিতে যদি কোনো মুসলিম জড়িত থাকতেন, তবে এতক্ষণে উত্তর প্রদেশ পুলিশ তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করত এবং তার বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক রাজনৈতিক খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজনোরের সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে যোগী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, “রাম মন্দির ট্রাস্টে কেবল একজন মুসলিমকে রাখলেই হতো! তাহলে যোগী সরকার খুব সহজেই তার এনকাউন্টার করে এবং তার বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে মামলার তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করে দিতে পারত। কিন্তু বর্তমান মামলার অভিযুক্তরা ভিন্ন সম্প্রদায়ের হওয়ায় তারা এখন বহাল তবিয়তে ও আরামে ঘুরছেন।”
আলোচিত এই জালিয়াতি মামলায় উত্তর প্রদেশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হায়দরাবাদের এই সাংসদ আরও বলেন, অনুদান আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দায় স্বীকার করে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় পদত্যাগ করলেও পুলিশ এখনও মূল অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান চেষ্টাই করছে না।
রাম মন্দিরের এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি বর্তমানে সমগ্র ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই চুরির ঘটনায় প্রকাশ্যে রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তোলার পর বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পায়। চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ঘটনার তদন্তে নামে উত্তর প্রদেশ সরকারের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তা ও মন্দিরের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনের করা এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে পুলিশ আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তরা হলেন— অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। তারা সবাই রাম মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
যদিও গত ২৬ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এক বিবৃতিতে দাবি করেন, জনগণের ধর্মীয় আস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করবে। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, মন্দিরের মূল হিসাব থেকে প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি রুপির নগদ অর্থের গরমিল রয়েছে, যার বিপরীতে পুলিশ এখন পর্যন্ত মাত্র ৮০ লাখ রুপি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো ঘটনার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে যোগী সরকারের তথাকথিত ‘বুলডোজার নীতি’র নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

